আজ ৩ রা নভেম্বর। ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস-২০২৬ পালন উপলক্ষে মঙ্গলবার ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিখালী স্মৃতিসৌধ চত্বরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এবং ‘তেলিখালী দিবসের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা ও স্মৃতিচারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসন, হালুয়াঘাট কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসানসহ বীর মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিবর্গ। সভায় সভাপতিত্ব করেন হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফয়সাল আহমেদ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা মহান মুক্তিযুদ্ধে তেলিখালীর ঐতিহাসিক যুদ্ধের তাৎপর্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসামান্য অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাঁরা নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও বীরত্বগাথা তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মাননা স্মারক প্রদান, গণকবর জিয়ারত, স্মৃতিবিজড়িত শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এলাকায় বীর শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ৩ নভেম্বর ভারতীয় সীমান্তবর্তী তেলিখালীতে পাকিস্তানি সেনাদের শক্তিশালী ঘাঁটি দখলমুক্ত করতে যৌথ অভিযান চালান মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্যরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টাব্যাপী রক্তক্ষয়ী সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর ১২৪ সদস্য এবং তাদের সহযোগী শতাধিক রাজাকার ও আলবদরসহ মোট ২৩৪ জন নিহত হন তাছাড়া সাতজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর ২১ জন সদস্য এ যুদ্ধে শহীদ হন বলে স্থানীয় মুক্তিযুদ্ধের বিবরণে উল্লেখ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, তেলিখালী যুদ্ধ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের আত্মত্যাগ এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সাহসিকতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও চর্চার মাধ্যমে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তাঁরা। দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে নতুন প্রজন্মের কাছে তেলিখালী যুদ্ধের ইতিহাস, মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা এবং স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন আয়োজকেরা। তাই দেশমাতৃকার স্বাধীনতার জন্য জীবন উৎসর্গকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্যদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে প্রতিবছর ৩ নভেম্বর দিনটি ঐতিহাসিক তেলিখালী যুদ্ধ দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
একইদিনে হালুয়াঘাট উপজেলা পরিষদে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা হয়।






-400x300.jpg&w=3840&q=75)
