ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মোঃ আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের ধারাবাহিক পরিণতি। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক কর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল। তাঁদের সম্মিলিত আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) দুপুরে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুথান দিবস উপলক্ষ্যে, জুলাই শহিদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি সমুন্নত রাখতে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, শিষ্টাচার এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চা অপরিহার্য। নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি আন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং তাঁদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু বলেছেন, জুলাইয়ের আন্দোলন কেবল দুই মাসের আন্দোলন নয়, বরং গত ১৬–১৭ বছরের সংগ্রামের ধারাবাহিকতা। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নির্যাতন ও কষ্ট সহ্য করেছেন। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ছাত্ররা যে আন্দোলনের সূচনা করেছিল, তা পরবর্তীতে সারাদেশের মানুষের আন্দোলনে পরিণত হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাধারণ মানুষ, নারী এবং সরকারি কর্মচারীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন সফল হয় এবং ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে। তিনি বলেন, অস্ত্র ছাড়াই এই আন্দোলনে বিজয় অর্জিত হয়েছে, যা মানুষের অদম্য মনোবলেরই প্রমাণ।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের সম্মান নিশ্চিত করতে হবে। জুলাই যোদ্ধা ও শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, আহতদের তালিকা সম্পন্ন করা এবং শহীদদের স্মরণে নামফলক স্থাপনের দাবির প্রতি তিনি সমর্থন জানান। তিনি বলেন, যারা সন্তান হারিয়েছেন, একমাত্র তারাই সেই বেদনার গভীরতা উপলব্ধি করতে পারেন।

সভাপতির বক্তব্যে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ রুকুনোজ্জামান রোকন বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা কোনো ব্যক্তি বা দলের একার নয় এটি দেশের আপামর মানুষের আন্দোলন। তাই এই চেতনাকে বিভাজনের নয়, ধারণ ও লালনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত না করে প্রকৃত অবদানকে মূল্যায়ন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। এছাড়াও অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সুমনা আল মজীদ, জুলাই শহিদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধা, সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের অতিথিগণ মহানগরীর তিন জন জুলাই শহীদ পরিবারের স্বজন ও ২৩ জন জুলাই যোদ্ধা ও স্বজনদের হাতে সম্মাননা স্মারক ও নগদ অর্থ তুলে দেন। পরে জুলাই শহীদ ও যোদ্ধাদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।








