বাসস : তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান শিশু-কিশোরদের খুঁজে বের করে তাদের দক্ষ ক্রীড়াবিদ হিসেবে গড়ে তোলার অনন্য উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের এই কর্মসূচি ইতোমধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আশির দশকের বহুল জনপ্রিয় প্রতিভা অন্বেষণ কর্মসূচি ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর সফলতার ধারাবাহিকতায় এটিকে আগামী দিনের খেলোয়াড় তৈরির একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে এটি তৃণমূল পর্যায়ের শিশু-কিশোরদের প্রতিভা প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠবে।
গত ২ মে থেকে দেশব্যাপী ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে। এদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সেই সঙ্গে ভার্চুয়ালি সারাদেশের জেলা স্টেডিয়াম কিংবা অন্যান্য উপযুক্ত মাঠে হাজারো প্রতিযোগী যুক্ত ছিলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে ক্রীড়া পরিদপ্তর। এক্ষেত্রে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় ক্রীড়া অফিস বিষয়টি দেখভাল করছে।
লেখাপড়ার পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে ১২-১৪ বছর বয়সী শিশু-কিশোরদের সুপ্ত ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণ, বাছাই এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাদের মেধা বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করাই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর মূল উদ্দেশ্য। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ, সুন্দর, আত্মবিশ্বাসী ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে খেলাধুলার ভূমিকা অপরিসীম। একইসঙ্গে দলগত চেতনা, নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলাবোধ বৃদ্ধিতেও খেলাধুলা সহায়তা করে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আর্টসহ মোট ৮টি ইভেন্ট এই ক্রীড়া আয়োজনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গত ১২ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ১ লাখ ৬০ হাজার ৭৭৯ জন কিশোর-কিশোরী অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন করে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৪৬ জন কিশোর এবং ৪৪ হাজার ১৩৩ জন কিশোরী।
এর মধ্যে সিলেট জেলায় সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ৩২৪ জন আবেদনকারী রয়েছে। এরপরই রয়েছে চট্টগ্রাম, সেখানে ৯ হাজার ৩০৫ জন এবং ঢাকায় ৮ হাজার ৮৯৬ জন রেজিস্ট্রেশন করেছে।
ময়মনসিংহ জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আল আমিন জানান, উপজেলা পর্যায়ে দল গঠনের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। আগামী ১৩ থেকে ২২ মে পর্যন্ত অঞ্চল ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা চলবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাছাইকৃত প্রতিটি খেলোয়াড়কে জেলা পর্যায় থেকে জার্সি প্রদান করা হবে। পাশাপাশি তাদের প্রতিটি পর্যায়ে স্বীকৃতিস্বরূপ সনদপত্র প্রদান করা হবে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এ অংশগ্রহণকারী কিশোর-কিশোরীদের উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত হারে ভাতা প্রদান করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ে বাছাইকৃত সেরা খেলোয়াড়দের জন্য দীর্ঘমেয়াদি আবাসিক প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ও নিজেকে পরিণত করার সুযোগ থাকবে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ভর্তির সুযোগও এর মাধ্যমে তৈরি হবে।
এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, চূড়ান্ত পর্বে নির্বাচিতদের বিকেএসপিতে ভর্তি ও বিশেষ ক্রীড়া বৃত্তির আওতায় আনা হবে। এছাড়া ঢাকার ওপর চাপ কমাতে চট্টগ্রামসহ অন্যান্য আঞ্চলিক বিকেএসপির কেন্দ্রগুলোকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।





