নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি চায়ের দোকান থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে এক সাংবাদিককে।
পুলিশ বলছে, দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে কাছ থেকে গুলি করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহত ব্যক্তির নাম লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির। তিনি 'ডিটেকটিভ আর্টিকেল' নামে একটি ফেসবুক পেজ পরিচালনা করতেন এবং সেখানে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও অপরাধের বিষয়ে লেখালেখি করতেন। এছাড়া, বেসরকারি একটি আইপিটিভি (ইন্টারনেট প্রটোকল টেলিভিশন) চ্যানেলে নেত্রকোনা প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি কর্মরত ছিলেন।
এর আগেও তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছিল এবং লেখালেখির কারণে তিনি নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, তিনি নিজেও একাধিকবার ওই ব্যক্তিকে সতর্ক করেছিলেন। তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।
এর আগেও কারা তাকে হুমকি দিয়েছে বা হামলা করেছে সেব্যপারেও সুনির্দিষ্ট করে পরিবার বা পুলিশ কিছু বলছে না।

'মোবাইলটা চেক করলে বোঝা যাইবো'
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির বাড়ি নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার সুনই গ্রামে। তবে তিনি দুর্গাপুরে তেলনজিয়া গ্রামে তার দ্বিতীয় স্ত্রীর বাড়িতে বসবাস করতেন। সেখানে তার দুই সন্তান রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা রাতে শ্বশুরবাড়ি থেকে কয়েক গজ দূরে একটি চায়ের দোকানে গিয়েছিলেন তিনি। এরপর রাত সোয়া ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
পরে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্গাপুর থানার ওসি খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ওই দোকানে চা পান করার পর ছয়টি সিগারেট কিনেছিলেন লুৎফুজ্জামান আলিফ। সেসময় আরও দুই অপরিচিত ব্যক্তি ওখান থেকে সিগারেট কেনেন।
পরে লুৎফুজ্জামান আলিফ মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে গ্রামীণ পথ ধরে শ্বশুরবাড়ির দিকে হাঁটতে শুরু করলে ওই দুই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করে। একপর্যায়ে তারা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তির মাথা, গলা ও বুকসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচটি গুলি করা হয়েছে।
গতকাল রাতেই পুলিশ ও কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান প্রথম আলোর স্থানীয় সাংবাদিক পল্লব চক্রবর্তী। তিনি বিবিসি বাংলাকে দোকানদার রবিন রাংছার বরাত দিয়ে বলেন, "ফকির ওখানেই বসে। গতকাল দোকান থেকে বের হয়ে ১০ ফুটের মতো হেঁটে গেছে। তখনই গুলি করলো।"
তার ভাষায়, দোকানদার পরপর কয়েকটি গুলির শব্দ শুনে ভয় পেয়ে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন।
ঘটনাস্থলটি দুর্গাপুর থানা থেকে সর্বোচ্চ এক কিলোমিটার দূরে বলে জানান তিনি।
লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরের কারও সঙ্গে শত্রুতা ছিল কি না জানতে তার স্ত্রী আনন্দিতা সংমাকে কল দেওয়া হলে কলটি ধরেন মিজ আনন্দিতার মা শিলা সংমা।
তিনি তখন গুলির খবর শোনার মুহূর্তের বর্ণনা দিয়ে বলেন, "বাসার সামনেই দোকান। তখন একজন লোক এসে বললো, তোমার জামাইর এই অবস্থা। গিয়ে দেখি, একা লাশ পড়ে আছে। আর কোনো মানুষ নাই।"
"ছয়টা গুলি করছে। মাথায়, গলায়, পেটে। এর বিচার যেন আমি পাই। এই দুইটা বাচ্চা নিয়া আমি এখন কী করবো," কান্না করতে করতে বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।
এরপর তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বলেন, "মোবাইলটা চেক করলে বোঝা যাইবো যে ও কার সঙ্গে কথা বলছিলো, কার সাথে তর্ক-বিতর্ক হইছিলো। ওর মোবাইল তো এখন পুলিশের হাতে।"










