তীব্র গরমে যখন জনজীবন হাঁসফাঁস, ঠিক তখনই ময়মনসিংহজুড়ে স্বস্তির বার্তা হয়ে উঠেছে মৌসুমি ফল—তালের শাঁস। তাপপ্রবাহের দাপটে ক্লান্ত মানুষ শরীর ঠাণ্ডা রাখতে ছুটছেন প্রাকৃতিক এই শীতল খাদ্যের দিকে। ফলে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, বিশেষ করে নান্দাইলসহ হাট-বাজার ও সড়কের পাশজুড়ে বেড়েছে তালের শাঁস বিক্রেতাদের আনাগোনা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকাল থেকেই কচি তাল কেটে শাঁস বের করে বিক্রির প্রস্তুতি নেন বিক্রেতারা। দিন গড়ানোর সাথে সাথে বাড়তে থাকে ক্রেতার ভিড়। দুপুরের প্রখর রোদে তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই দাঁড়াচ্ছেন এসব অস্থায়ী দোকানে।
স্থানীয় বিক্রেতা রহিম উদ্দিন বলেন, ‘এবার গরম বেশি হওয়ায় তালের শাঁসের চাহিদা অনেক বেড়েছে। প্রতিটি তালে দুই থেকে তিনটা শাঁস পাওয়া যায়। আকার অনুযায়ী প্রতি শাঁস ১০ টাকায় বিক্রি করছি। প্রতিদিন ভালোই বিক্রি হচ্ছে, আয়ও বাড়ছে।’
ক্রেতাদের মতে, তালের শাঁস শুধু সুস্বাদুই নয়, এটি গরমে শরীরকে ঠাণ্ডা রাখতে কার্যকর। অনেকেই নিজের জন্য কিনছেন, আবার পরিবারের জন্যও নিয়ে যাচ্ছেন।
স্বাস্থ্যসচেতনদের ভাষ্য, তালের শাঁসে রয়েছে প্রচুর জলীয় অংশ ও প্রয়োজনীয় খনিজ, যা শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়ক। গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রাকৃতিকভাবে শরীরকে সতেজ রাখতে এটি হতে পারে সহজলভ্য এক পুষ্টিকর সমাধান।
গরমের তীব্রতা আরো বাড়লে তালের শাঁসের চাহিদা বাড়বে-এমনটাই আশা করছেন বিক্রেতারা। মৌসুমি এই ফল এখন শুধু তৃষ্ণা নিবারণই নয়, অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর জীবিকাতেও এনেছে নতুন গতি।





