গণশুনানিতে অসহায়ত্ব এর কথা শুনে গরিব অটোরিকশা চালকের ০৯ বছরের ছেলের ওপেন হার্ট সার্জারীর দায়িত্ব নিলেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার দাপুনিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ শফিকুল ইসলাম ও মোছাঃ শেফালী খাতুনের দ্বিতীয় ছেলে সোহানুর ইসলাম রাব্বী (০৯) জন্মগতভাবে জটিল হৃদরোগে আক্রান্ত। জন্মের সাত মাস পর তার হৃদরোগ শনাক্ত হয়। শিশুটির বাবা পেশায় একজন সামান্য গাড়িচালক। পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছিল না। স্থানীয় চিকিৎসকদের পরামর্শে বিভিন্ন সময়ে ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাব্বীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তার হৃদযন্ত্রে অস্ত্রোপচারসহ উন্নত চিকিৎসা জরুরি হয়ে পড়ে, যার জন্য আনুমানিক ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার প্রয়োজন ছিল।
এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে গত ১৫ সেপ্টেম্বর সাপ্তাহিক গণশুনানিতে জেলা প্রশাসকের কাছে চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানান রাব্বীর মা মোছাঃ শেফালী খাতুন। শিশুটির পরিবারের অসহায়ত্বের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার একজন জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা: ফয়জুল আলমের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং বিভিন্ন টেস্টের রিপোর্ট হোয়াটসঅ্যাপে প্রেরন করে শিশুটির উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করেন। পাশাপাশি, জরুরি ভিত্তিতে রাব্বীকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা শুরু করার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ১৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
পরবর্তীতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রাব্বীকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার ওপেন হার্ট সার্জারির ব্যবস্থা করা হয়। অবশেষে গত ২০ অক্টোবর রাতে রাজধানীর একটি স্বনামধন্য মেডিকেল সেন্টারে সফলভাবে সম্পন্ন হয় রাব্বীর ওপেন হার্ট সার্জারি। যথাসময়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত হওয়ায় শিশুটির পরিবারে ফিরে আসে নতুন আশার আলো।
রাব্বীর চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহে যাকাত ফাউন্ডেশন, হাসপাতাল সমাজসেবাসহ ডা: ফয়জুল আলমের পরামর্শক্রমে তাদের পরিচিত ঢাকাস্থ শিশু স্বাস্থ্য ট্রাস্ট এবং অনান্য গন্যমান্য ব্যক্তির কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২২ অক্টোবর ২০২৬ খ্রি. বৃহস্পতিবার তার বাবা-মায়ের হাতে চিকিৎসা সহায়তা হিসেবে আরও ১ (এক) লাখ টাকা তুলে দেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, এই মানবিক উদ্যোগ আর্থিকভাবে অসচ্ছল একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি অসহায় মানুষের দুঃসময়ে সরকারি প্রশাসনের সহমর্মিতা ও দায়িত্বশীলতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনের এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।







