ময়মনসিংহে মেয়ে আমেনা আক্তার নওরীন হত্যাকারি জামাতা লুৎফুল্লাহির কবির আশিককে অভিযুক্ত দায়ী করে ন্যায় বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মেয়ে মা সালমা আক্তার প্রীতি| আজ সকালে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে তিনি হত্যাকারি হিসেবে আশিকের ফাসি দাবি করেন| এসময় নিহত নওরীনের বাবা মো. নূর হোসেন, খালা নুসরাত জাহান শাওন ও খালু সোহাগ উপস্থিত ছিলেন|
সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ২০২২ সালে নওরিনের সাথে কুষ্টিয়া নামাপাড়া এলাকার নূর মোহাম্মদে আশিকের সাথে বিয়ে হয়| বিয়ের পর মাঝে মধ্যে স্বাভাবিক দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকতো| পরবর্তীতে আশিক চাকরির সুবাদে ঢাকা উত্তরার ভাড়া বাসায় বসবাস শুরু করে| সেখানে নওরিন শান্তা মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য ভর্তি হয়| শুরুতে সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও কিছুদিন পর আশিক অস্বাভাবিক আচরণে নওরিনের সন্দেহ হয়| পরে নওরিন জানতে পারে আশিক তার অফিস সহকর্মী উর্মি নামের এক হিন্দু মেয়ের সাথে অবৈধ পরকিয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে| পরে উর্মির সাথে কথা বলে তাদের সংসার থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করলেও আশিক তা মানেনি| এ বিষয়ে তার আশিকের পরিবারের সাথে কথা বললেও তারা কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি| বরং তারা তাদের ছেলেকে প্রশ্রয় দিয়ে যায়| পরবর্তীতে আমার নওরিনকে প্রায় প্রতিদিনই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়| এরপর নওরিনকে ময়মনসিংহে নি আসি| দু’দিন পর আশিক ভুল স্বীকার করে এবং ভবিষ্যতে এমন আচরণ করবে না বলে আশ্বাস দিয়ে নওরিনকে আবার ঢাকায় নিয়ে যায়|
ঢাকায় যাওয়ার এক সপ্তাহ পর গত ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আশিক ফোন করে জানায় যে, নওরিন ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে| খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নওরিনের নিথর দেহ ঘরের বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় দেখতে পাই| তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল| কিন্তু ঘটনাস্থলে আত্মহত্যার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি| ফ্যানে কোনো দাগ, রশি বা বুলন্ত অবস্থার চিহ্নও ছিল না| আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, পরিকল্পিতভাবে আমার নওরিনকে হত্যা করে এটিকে আত্মহত্যা বলে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে| ঘটনার রাতে তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাসহ উপস্থিত অনেকেই প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মন্তব্য করেন| পরদিন আমরা উত্তরা তুরাগ থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে মামলা নিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন| পরবর্তীতে অনুরোধের পর ৩০৬ ধারায় মামলা রুজু হয়| গত ২৪ এপ্রিল আশিককে গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হলেও ১৯ দিনের মধ্যেই ক্ষমতার প্রভাবে জামিনে মুক্ত হয়ে আসে| এর পর থেকে আমাদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে| বর্তমানে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি| তাই প্রশাসনের কাছে রহন্যজনক মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাসি দাবি করেন নওরিনের মা সালমা আক্তার প্রীতি|





