বাসস : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘কুমিল্লা’ নামে বিভাগ হবে। তিনি বলেছেন, 'কুমিল্লা নামে বিভাগ হওয়াটা যদি এই অঞ্চলের জনগণের দাবি হয়ে থাকে ইনশাল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন হবে। বিএনপি সরকার জনগণের সকল দাবি পর্যায়ক্রমিক ভাবে পূরণ করবে।'
প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের বিষয়ে শিগগীরই শিক্ষামন্ত্রীর সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেয়ার কথাও তুলে ধরেন। আজ দুপুর দেড়টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক পথ সভায় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ কুমিল্লাবাসীর পক্ষে ‘কুমিল্লা’ নামে কুমিল্লা বিভাগ এবং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলে ধরেন। কর্মীরাও তুমুল করতালি দিয়ে কৃষিমন্ত্রীকে সমর্থন জানায়। এ সময় প্রধানমন্ত্রী জনগণকে বিএনপি সরকারের শক্তি উল্লেখ করে তাদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
ইউএনবি জানায়, সবার প্রতি দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি, বহু মানুষ শহীদ হয়েছেন। বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছেন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য। আজ আল্লাহর রহমতে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আমাদের দেশ গড়ার পালা।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছিলাম। ঠিক একই সময় পৃথিবীর অনেকগুলো দেশ স্বাধীন হয়েছিল। সেই দেশগুলো আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে গেছে। এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিল এ দেশের মানুষ। সেই স্বৈরাচারের কবল থেকে এদেশের মানুষ দেশকে মুক্ত করেছে।’
এ সময় কুমিল্লা বিভাগ চেয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত হয় সভাস্থল। এরপর প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণ দেশের মালিক। কুমিল্লা বিভাগ যদি জনগণের দাবি হয়, সেটি বাস্তবায়ন হবেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লার মানুষ কৃষিনির্ভর। তারা কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করার দাবি তুলেছেন। আমি শিগগিরই এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বসব, যাতে যত দ্রুত সম্ভব কুমিল্লায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করা যায়। তবে সকলকে ধৈর্য ধরতে হবে। এই মুহূর্তে দেশের অর্থনীতি চাপের মধ্যে আছে। গত ১৭ বছরে দেশকে অনেক পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা ধীর ধীরে সকল দাবি বাস্তবায়ন করব, কিন্তু ধৈর্য ধরতে হবে।’
সরকারপ্রধান বলেন, আমি আজকে চাঁদপুর যাচ্ছি। খাল খনন ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য। নির্বাচনের আগে আমরা এসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম ইমামদের, ধর্মীয় গুরুদের সম্মানিত করব। আমরা সে কাজ শুরু করেছি। ধাপে ধাপে আপনাদের সকল দাবি বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। দেশ গঠনে সবাইকে পরিশ্রম করতে হবে। আল্লাহ পরিশ্রমীদের পছন্দ করেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে, কুমিল্লার লাকসামের মুদাফ্ফরগঞ্জের আরেকটি পথসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে এক বছরের মধ্যে তিনি ৫০ লাখ মা-বোনকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এছাড়া বাজেটেও ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বরাদ্দের কথাও বলেন।
গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ, কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়াসহ আরও অনেকে।





