হরমুজ প্রণালি দিয়ে নৌচলাচল শুরুর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা থমকে থাকলেও ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বলেছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে বুধবার বিকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ২৬টি নৌযান সঙ্কীর্ণ ওই জলপথ পাড়ি দিয়েছে।
অনুমতি নিয়ে ও আইআরজিসি’র নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করেই হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল হচ্ছে,” বুধবার তাদের এ বিবৃতিটি প্রকাশ করেছে ইরানের রাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট বার্তা সংস্থা ইসনা।
পরে সেদিনই ইরানের পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ (পিজিএসএ) এক্সে হরমুজের ‘নিয়ন্ত্রিত সামরিক অঞ্চল’ চিহ্নিত করে একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশ করেছে; ওই নিয়ন্ত্রিত এলাকায় কোনো নৌযানই তাদের অনুমতি ছাড়া চলাচল করতে পারবে না, বলেছে আল জাজিরা।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রণালির পূর্বাঞ্চলীয় প্রবেশপথে এ নিয়ন্ত্রিত এলাকা ইরানের কুহ-এ মুবারক থেকে শুরু করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরা’র দক্ষিণ পর্যন্ত বিস্তৃত; পশ্চিম প্রবেশপথে এটি শুরু হয়েছে ইরানের কেশম দ্বীপের প্রান্ত থেকে, শেষ আরব আমিরাতের উম্ম আল-কোয়াইনে।
গেল ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি দিয়েই বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি গন্তব্যে যেত। মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পাল্টায় যুদ্ধের শুরুর দিকেই তেহরান ব্যস্ত এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় এবং তাদের অনুমতি ছাড়া নৌচলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
এর জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ দিয়ে ইরানের আয়ের প্রধান উৎস তার তেল রপ্তানিকে চেপে ধরার উদ্যোগ নেয়।
দুই পক্ষের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারকে অস্থির করে তোলার পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে মানবিক বিপর্যয় যে আসন্ন সেই উদ্বেগও বাড়াচ্ছে।
বুধবার জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা এফএও হরমুজ ও ইরানি বন্দরগুলোতে পাল্টাপাল্টি অবরোধ ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে বিশ্বজুড়ে খাদ্যমূল্যে তীব্র সংকট সৃষ্টি করতে পারে। হরমুজ ও এর আশপাশে নৌ চলাচলে যে ব্যাঘাত ঘটছে তাকে ‘পদ্ধতিগত কৃষি-খাদ্য ধাক্কার সূচনা’ বলেও অভিহিত করেছে তারা।ধাক্কাটি ধাপে ধাপে প্রকাশ্যে আসছে: জ্বালানি, সার, বীজ, ফলন কমে যাওয়া, পণ্যমূল্য বৃদ্ধি, এরপর খাদ্য মূল্যস্ফীতি,” বলেছে রোমভিত্তিক সংস্থাটি।
থমকে থাকা আলোচনা
বুধবার ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অগ্রগতি হচ্ছে’ বলে জানালেও তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে ফের সামরিক শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন।
এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, যুদ্ধ ফের শুরু হলে অনেক চমকের দেখা মিলবে’। আর আইআরজিসি হুমকি দিয়ে বলেছে, ইরান যদি ফের হামলার সম্মুখীন হয়, তাহলে তারা সংঘাত ‘অঞ্চলের বাইরে’ ছড়িয়ে দেবে।
ওয়াশিংটন ডিসিভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো উইল টডম্যান আল জাজিরাকে বলেছেন, অবরোধের আওতা বাড়ালে অন্য পক্ষের তুলনায় বেশি সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা যাবে—যুদ্ধরত উভয়পক্ষ এমনটাই বিশ্বাস করছে বলে মনে হচ্ছে।
আমার মতে, এমন কিছু দেখা খুব কঠিন যা পুরো হিসাব-নিকাশই বদলে দেবে, কারণ দুপক্ষই বিশ্বাস করছে—পরিস্থিতি যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, তাদের চাপ সৃষ্টির ক্ষমতাও তত বাড়বে, কারণ তাদের প্রতিপক্ষ অর্থনৈতিকভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে,” বুধবার বলেন টডম্যান।





