সাইফুল ইসলাম : ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রোকনুজ্জামান রোকন বাসার বর্জ্য ড্রেনে না ফেলার জন্য নগরীর সকল গৃহিনীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এক বছর কাজ করতে পারলে একটি মানুষও পলিথিনের নিচে বসবাস করতে হবে না।
শুক্রবার রাতে নগরীর একটি রিসোর্টে ময়মনসিংহ প্ল্যানার্স এন্ড ডিজাইনার্স এসোসিয়েশনের পঞ্চম অভিষক এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন। এসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম বনিকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী তানভীর আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বসত আর্কিটেক্ট ইঞ্জিনিয়ার্সের মূখ্য স্থপতি ও বাংলাদেশ স্থপতি ইন্সটিটিউটের প্রাক্তন সহ-সভাপতি স্থপতি মাসুদুর রহমান খান, জেলা মটর মালিক সমিতি মহাসচিব রতন আকন্দ, ময়মনসিংহ দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুজ্জামান ছোটন, প্রাক্তন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী সজল চন্দ্র চন্দ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনের জেলা সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান, এসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি মোবারক হোসেন অনাদি এবং এসোসিয়েশনের বিদায়ী সভাপতি প্রকৌশলী মো. আজাহার হোসেন। অনুষ্ঠানে অতিথি এবং শিক্ষার্থীদের উপহার প্রদান করা হয়।
সিটি প্রশাসক বলেন, নগরীর ১৩ হাজার পরিবার পলিথিনের নিচে বসবাস করেন। প্যানা দিয়ে বাসার ছাউনি বানিয়েছেন। সামান্য বৃষ্টি হলেই তাদের ঘরে পানি পড়ে। তিনি বলেন, আমি এই শহরে বড় হয়েছি। আমি চাই না এসব মানুষ প্যানার নিচে থাকুন। আমি যদি এক বছর কাজ করতে পারি তাহলে একটি মানুষকেও পলিথিনের নিচে ঘুমাত হবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাকে নগরবাসীর উন্নয়নের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছি দায়িত্ব কতটুকু পালন করতে পারবো জানিনা তবে চেষ্টার কোন ত্রুটি হবে না।
৫৯ দিন আগে দায়িত্ব নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে সিটি প্রশাসক বলেন, প্রধানমন্ত্রী দিনে ১৭ ঘন্টা কাজ করতে পারলে আমি কেন পারবো না। দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে আমার ঘুম নেই। বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা নিরসন করতে রাস্তায় নেমে পড়ি। যেদিন বৃষ্টির পর রাস্তায় পানি জমে না, সেদিন ঘুমাতে পারি। তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের আমলে অনেক রাস্তা এবং ড্রেনের কাজ এখনো অসমাপ্ত রয়েছে। জনগণের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এসব রাস্তার কাজ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী অর্থ বরাদ্দ দিচ্ছেন। আশা করছি অসমাপ্ত কাজগুলো বর্ষার পর শুরু হবে। আগামী বছরের আগেই সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তাতে জনগণের দুর্ভোগ লাগব হবে।
সিটি প্রশাসক নগরীর সকল গৃহিনীদের প্রতি বাসার বর্জ্য ড্রেনে না ফেলার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, 'নগরীর প্রত্যেক গৃহিণী ও মা-বোনদের কাছে আমার দুটি অনুরোধ আপনারা ড্রেনে ফেলার জন্য কাজের লোকের হাতে কেউ বর্জ্যের ব্যাগ তুলে দিবেন না। আরেকটা অনুরোধ রাস্তায় অটো দাঁড় করিয়ে ভাড়া দিতে গিয়ে যানজট সৃষ্টি করবেন না। তিনি বলেন, আপনি যখন ২০ টাকার ভাড়া দেয়ার জন্য ১০০ টাকার নোট দেন বাকি টাকা ফেরত দিতে দিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের কষ্ট হয়। এমন ভোগান্তির কারণে মানুষ সিটি করপোরেশনকে দায়ী করে। অথচ দোষটা সিটি করপোরেশনের নয়।
সিটি প্রশাসক বলেন, নগরীর প্রায় সাতশো লেবার আছে। তাদের দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেন ও খাল পরিস্কার করা হচ্ছে। যে খাল ভরাট হয়ে গিয়েছিল সেই খালে এখন ব্রহ্মপুত্রের মতো পানি। নগরবাসি যে আকুয়া খালের কথা ভুলতে বসেছে সেই আকুয়া খালে আমি আপনাদেরকে বোটে চড়াতে পারবো ইনশাল্লাহ।
তিনি বলেন, জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে নগরীতে যারা একতলা দুতলা বা ৩/৪ তলা বাড়ি নির্মাণ করেন আমি তাদের নিয়ে মতবিনিময় করে সাফ জানিয়ে দিয়েছি প্ল্যান পাস করার জন্য কোনো টাকা লাগবে না। কাউকে এক টাকা ঘুষ দিবেন না। কিন্তু আপনার বাড়ির রঙ করার ব্যবস্থা রেখে বাড়ি নির্মাণ করবেন যাতে সিটি করপোরেশন আপনাকে কিছু বলতে না পারে।





