গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ব হাতি দিবস পালিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক প্রচারণার এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এবারের প্রচারণাটি বন্য পরিবেশে হাতিদের প্রদর্শিত মৌলিক গুণাবলি, যেমন: সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সহনশীলতা এবং সচেতন ও দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান নিজ জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে। গারো পাহাড় অঞ্চলে বন্যহাতি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, মানুষ-হাতি সহাবস্থান ও সংঘাত নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদের তিন উপজেলায় গতকাল (বুধবার) নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ, শ্রীবরদীর বালিজুড়ি রেঞ্জ এবং নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জে ‘হাতির খবরাখবর ও সচেতনতা’ গ্রুপ, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, বনবিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

ইউএনপির শেরপুর প্রতিনিধি হাকিম বাবুল জানান, শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে বন্যহাতির সংখ্যা বাড়লেও সংকুচিত হচ্ছে তাদের বিচরণক্ষেত্র। অবাধে গাছ কাটা, অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন, বন দখল করে বসতি স্থাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরণা শুকিয়ে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যভান্ডার কমে গেছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতির নেমে আসার ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের অসচেতনতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও।
এই দ্বন্দ্বে যেমন মানুষের হতাহত ও সম্পদহানি ঘটছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যহাতির জীবনও। গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে হাতি মারা পড়ছে।
একসময় ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের জঙ্গল থেকে সীমান্ত পার হয়ে শেরপুরের বনাঞ্চলে বিচরণ করত বন্যহাতির দল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শেরপুর অঞ্চলে বিচরণকারী হাতির দল এখন আর ভারতের জঙ্গল থেকে থেকে আসা ‘পরিযায়ী’ হাতি নয়। বেশকিছু হাতি স্থায়ীভাবেই এখানে বসবাস ও বিচরণ করছে। এজন্য বন্যহাতি সুরক্ষায় শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
বাড়ছে হাতির সংখ্যা
প্রায় এক দশক আগে আইইউসিএনের এক জরিপে শেরপুরের বনাঞ্চলে ১২০ থেকে ১২৫টি হাতি রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই জরিপে সব হাতিকেই পরিযায়ী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অর্থাৎ এসব হাতি ভারত থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের বনে প্রবেশ করত। এসব হাতিকে ‘এশিয়ান হাতি’ বলা হয়। বর্তমানে এই এশিয়ান হাতিগুলো অত্যন্ত ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
ভারত থেকে আসা এসব বন্যহাতি শেরপুরের সীমান্তবর্তী ৮ হাজার ৩৭৬ একরের বনভূমিতে বিচরণ করে। ধান ও কাঁঠালের মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে প্রতি রাতে হাতিগুলো পাল বেঁধে চলে আসে সমতলে। জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ থেকে শেরপুরের বনাঞ্চল ধরে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলা পর্যন্ত এলাকা চষে বেড়ায় এরা। তবে বর্তমানে গারো পাহাড় সীমান্ত অঞ্চলে দিন দিন বন্যহাতির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। বনবিভাগের একটি সূত্র জানায়, গত ৩ বছরে অন্তত ৫৫টি হাতি শাবকের জন্ম হয়েছে বলে বনবিভাগের অনুমান। ইতোপূর্বে গারো পাহাড়ে ১০০ থেকে ১২০টি বন্যহাতির বিচরণ লক্ষ করা গেলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০টিতে দাঁড়িয়েছে বলে বন কর্মকর্তাদের ধারণা।





%252018.08.2026-400x300.jpg&w=3840&q=75)


