ময়মনসিংহের ভালুকায় কয়েকটি গ্রামে পাগলা কুকুরের কামড়ে দুই দিনে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আহত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয় আরও বেড়ে গেছে, ফলে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি কমে গেছে।
সোমবার (১৮ মে) উপজেলার মেদুয়ারী ইউনিয়নের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ প্রায় ফাঁকা দেখা যায়। অনেক শিক্ষার্থীই আতঙ্কে স্কুলে আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, উপজেলার নিঝুরী, মেদুয়ারী ও কুচিলাতলা গ্রামে একের পর এক মানুষকে বেওয়ারিশ কুকুর কামড় দিচ্ছে। গত শনিবার (১৬ মে) ও রোববার (১৭ মে) দুই দিনে নারী-শিশুসহ অন্তত ১২ জনকে কুকুরে কামড় দেয়। মানুষের পাশাপাশি গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগিও কুকুরের আক্রমণ থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
আহতদের মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আফরিন আক্তার (৭), তার দাদা মনু মিয়া (৬৮), খাইরুল ইসলামের ছেলে মাহমুদুল হাসান (২), আসাদুল ইসলামের ছেলে সাইম হাসান (৩০), শহিদুল ইসলামের ছেলে সিয়াম (৪) এবং প্রতিবেশী হাসনা বেগম (৫০)। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
ভাটি মেদুয়ারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ খাদেমুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বেড়েছে। সোমবার সকালে একটি পাগলা কুকুরকে স্থানীয়রা মেরে ফেলেছে। আতঙ্কে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর উপস্থিতি প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। কিছু অভিভাবক লাঠি নিয়ে সন্তানদের স্কুলে পৌঁছে দিচ্ছেন।
মেদুয়ারী গ্রামের মঞ্জিলা খাতুন জানান, রোববার বেলা ১১টার দিকে সিয়ামকে তার বাড়ির পাশে ৪–৫টি কুকুর কামড় দেয়। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তিনি বলেন, এলাকায় কুকুরের চলাফেরা বেড়ে গেছে, এখন ছাগলগুলোও মাঠে যেতে ভয় পাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নজরুল ইসলাম জানান, গত দুই দিনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কুকুরের কামড়ের ঘটনায় ৮ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। তাদের সরকারি হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে।





