ময়মনসিংহ নগরীর বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কারের পর চার তরুণের উদ্যোগে সেখানে এখন ছড়াচ্ছে হরেক রকম ফুলের সুবাস। উপহারের ঝুড়ি, পুরোনো বালতি ও মগে লাগানো ফুল এবং পাতাবাহার গাছে রঙিন হয়ে উঠেছে কলোনির দেয়ালে দেয়ালে ঝুলন্ত বাগান।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নগরীর ১৩নং ওয়ার্ডে গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী দেয়াল বাগান পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়কমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। পরিদর্শনকালে তিনি স্থানীয়দের এই সবুজ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং সারাদেশের শহরগুলোতে এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর জোর দেন।
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে এই বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে স্থানীয় মানুষ যেভাবে পরিবেশবান্ধব ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলেছেন, তা দেখে অভিভূত তিনি। মানুষের বসবাসের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং গাছ লাগানোর মাধ্যমে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
.jpeg)
পরিবেশমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সরকার এ বছর প্রায় সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছে। দেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ রোপণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এসময় ময়মনসিংহ-৪ সদর আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ-৫ মুক্তাগাছা আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশেনের প্রশাসক মো. রোকুনোজ্জামান রোকন উপস্থিত ছিলেন।

যেভাবে বদলে গেল কলোনি
২০২৩ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও পয়েন্ট ব্যবস্থা সংস্কার করে। এর পরই মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার নামে চার তরুণ এলাকাটি বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা হাতে নেন। তারা স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে বাসাবাড়ির দেয়ালে বাগান করার প্রস্তাব দিলে সবাই এক বাক্যে মেনে নেন।
মাত্র তিন মাসের প্রচেষ্টায় কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে তোলা হয় এই সবুজ বাগান। পরিত্যক্ত বালতি, মগ ও ঝুড়িকে টব বানিয়ে সেখানে লাগানো হয়েছে অর্কিডসহ হরেক প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার গাছ। গাছে গাছে সাঁটানো রয়েছে সচেতনতামূলক বার্তা– ‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’। রাতে পুরো এলাকা হাসনাহেনার সুবাসে ভরে ওঠে।
.jpeg)
উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের ছোট্ট উদ্যোগটি যে এলাকার পরিবেশ এভাবে বদলে দেবে, তা ভাবিনি। আজ পরিবেশমন্ত্রী নিজে এসে আমাদের কাজ দেখে গেছেন, এটি আমাদের জন্য বিশাল প্রেরণা।’



-400x300.jpg&w=3840&q=75)




