পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে কথিত বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের তার রাজ্যের পুলিশ গ্রেফতার করে বিএসএফের হাতে তুলে দেবে, তারপরে তারাই ওই কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'দের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে। কিন্তু এতদিন ধরে আইন অনুযায়ী যেভাবে বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের ফেরত পাঠানো হতো, নতুন নিয়ম তার থেকে কতটা আলাদা?
বাংলাদেশ থেকে আসা কথিত 'অনুপ্রবেশকারী'রা পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে সবসময়েই একটা ইস্যু হয়ে থেকেছে বিজেপির কাছে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও এই ইস্যুতে নিয়ে সরব ছিলেন নরেন্দ্র মোদীসহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব।
ভোট শেষ হয়ে নতুন সরকার গঠনের পরেই নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন যে কীভাবে তার সরকার কথিত বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের ফেরত পাঠাবে।
প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বিদেশি নাগরিক ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করলে তাকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়, বিদেশি আইনের ১৪এ ধারায় মামলা হয় এবং বিচারের পরে কোর্ট সেই ব্যক্তির সাজা নির্ধারণ করে।
সাজার মেয়াদ শেষ হলে কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে রাজ্য সরকার বাংলাদেশের দূতাবাসে যোগাযোগ করে, সেই ব্যক্তির নাগরিকত্ব ও তার নিজের দেশে ঠিকানা ইত্যাদি সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে শেষ পর্যন্ত সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মাধ্যমে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই আইন অনুমোদিত নিয়মের বাইরেও আরেকটি অলিখিত নিয়ম চলে সীমান্তে, যার নাম 'পুশ ব্যাক' পদ্ধতি।
এই ক্ষেত্রে ভারতে আটক হওয়া বাংলাদেশিকে বিচার প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়ে সীমান্তে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতের অন্ধকারে সীমান্তের অন্যদিকে ঠেলে দেওয়া হয়।
গত প্রায় এক বছর ধরে ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী' সন্দেহে অনেককে এভাবেই ঠেলে দেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের মধ্যে অনেকেই ভারতের বৈধ নাগরিক ছিলেন - যাদের আবার চাপের মুখে পড়ে পরে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
ওই পদ্ধতির আইনি বৈধতা প্রশ্নের মুখে থাকলেও গত বছরের মে মাসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশিকা জারি করে, যেখানে কীভাবে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের তাদের দেশে পাঠানো হবে, সেই পদ্ধতি বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
সেখানে যে পদ্ধতির কথা লেখা হয়েছে, সেটা আদতে 'পুশ-ব্যাক'-ই। 'পুশ ব্যাক' পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরেই বিএসএফ নিয়ে থাকে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বাহিনী কখনোই বিষয়টি স্বীকার করেনি।
'সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে হ্যান্ডওভার'
বুধবার রাজ্য সচিবালয় 'নবান্ন'-র সভাঘরে বিএসএফ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শুভেন্দু অধিকারী। সেখানে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমির একাংশ বিএসএফ-কে হস্তান্তর করা হয়। সীমান্ত সুরক্ষা এবং জমি হস্তান্তর প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে একাধিকবার 'অনুপ্রবেশকারী'দের প্রসঙ্গও তোলেন তিনি।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বছর মে মাসে সন্দেহভাজন বাংলাদেশি 'অনুপ্রবেশকারী'দের নিয়ে কী করতে হবে বলে যে নির্দেশিকাটি জারি করেছিল, তা ছিল 'অতি গোপনীয়'। তবে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বেশ কয়েকবার এই নির্দেশিকার বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন রাজনৈতিক সভায়। কিন্তু সেটির বিষয়বস্তু কখনোই প্রকাশ্যে আসেনি।
ওই নির্দেশিকার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "আমাদের ভারত সরকারের পক্ষ থেকে ১৪ই মে ২০২৫-এ যারা অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তাদের সরাসরি বিএসএফ-এর হাতে হ্যান্ডওভার করার জন্য একটি নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছিল।





