আগামী অর্থবছরের বাজেটে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীকে আত্মনির্ভরশীল ও "চতুর্মাত্রিক” বাহিনীতে রূপান্তরের এক উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা উন্মোচন করেছে বিএনপি সরকার। দেশের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা কৌশলে এটিকে একটি বড় ধরনের পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বৈশ্বিক পরাশক্তি হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় থাকা চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আসন্ন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে এই ঘোষণাটি এলো।
জাতীয় সংসদে পেশ করা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট দলিলে এই উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের গোয়েন্দা কাঠামোর ভেতরেও সম্পদের একটি সম্ভাব্য ভারসাম্য আনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। এই কৌশলটি গত ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের আগে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ুমেড ইন বাংলাদেশ” ব্যানারে একটি অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলার এবং দ্বিতীয় সমরাস্ত্র কারখানা (বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি) নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে।
বৃহস্পতিবার সংসদে বাজেট পেশ করার সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রতিরক্ষা খাতে ৪২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করেছেন, যা চলতি অর্থবছরের ৪০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা থেকে বেশি। মূলত এই বাজেটটি পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষম একটি আত্মনির্ভরশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা নির্দেশ করে।
ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি:
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে পরিবর্তনশীল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার বাস্তবতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি আধুনিক, পেশাদার এবং সক্ষম সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণের জন্য শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত জরুরি।
এই লক্ষ্য অর্জনে দলটি একটি ুসমসাময়িক ও চতুর্মাত্রিক সশস্ত্র বাহিনী” গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেছিল, যা স্থল, জল, আকাশ ও সাইবার মাধ্যমের পাশাপাশি মহাকাশের মতো উদীয়মান ক্ষেত্রেও নির্ভরযোগ্য প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
কেবল সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহই নয়, ইশতেহারে একটি জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিল গঠন, সশস্ত্র বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক পেশাদারিত্ব জোরদার করার মতো কাঠামোগত সংস্কারেরও অঙ্গীকার করা হয়েছিল। এ ছাড়া সামরিক প্রয়োজনীয়তা মেটাতে এবং বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা কমাতে একটি আত্মনির্ভরশীল অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
এই লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বাজেট দলিলে উল্লেখ করা হয়, একটি উচ্চ দক্ষ ও অপারেশনের জন্য সদাপ্রস্তুত সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমানবাহিনী গড়ে তোলার মূল ভিত্তি হবে আধুনিক অস্ত্র ব্যবস্থা সংগ্রহ, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং তথ্যপ্রযুক্তির সংযুক্তি বৃদ্ধি করা।
নতুন গোয়েন্দা কাঠামো:
প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের গোয়েন্দা খাতের ভেতরে তহবিল বরাদ্দে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
বাজেটের নথিপত্র অনুযায়ী, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) জন্য প্রস্তাবিত বরাদ্দ কমিয়ে ২৩৬ কোটি টাকা করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৫৪৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পরিচালিত জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) অর্থায়ন বাড়ানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে এনএসআই ও এর মাঠ পর্যায়ের ইউনিটগুলোর জন্য ৬২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৫৪০ কোটি টাকা।





